1. admin@muhurto.tv : muhurtotv :
  2. info@netpeon.org : Ali Siddiki : Ali Siddiki
  3. smbabu.mcj@outlook.com : S M Babu : S M Babu
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

বাঘা মাজার প্রাঙ্গণে রমরমা ব্যবসা, ইজারার নামে চাঁদাবাজি

সৈয়দ মাসুদ, সংবাদ মুহূর্ত, রাজশাহী।
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৪২ প্রদর্শিত সময়ঃ

রাজশাহীর বাঘা মাজারের পুরো এলাকাজুড়ে বসেছে অসংখ্য দোকানপাট। গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে এসব অবৈধ স্থাপনায় দর্শনার্থী ও নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা থাকায় সড়কের একটি বড় অংশের উপর রাখতে হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের যানবাহন। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়াক্ফ এলাকা বাঘা মাজার প্রাঙ্গণে ফার্নিচারের দোকান, পুরাতন বস্ত্রের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং গামেন্টস সামগ্রীর দোকানে পরিপূর্ণ হয়ে আছে পুরো এলাকা। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ওয়াক্ফ এলাকায় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে এসব দোকানপাট। প্রতিনিয়ত দখল হচ্ছে নতুন নতুন জায়গা। মাজার প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য তৈরি করা শেডগুলোও দখল হয়ে গেছে।

মাজার এলাকায় সব মিলিয়ে তিন শতাধিক দোকান রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই। বরং প্রভাশালীদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। এ নিয়ে অনেকের আক্ষেপ রয়েছে। তারা বলছেন নামেই উচ্ছেদ অভিযান হয়। এগুলোর দখলমুক্ত রাখার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ দরকার তা পালনে ব্যর্থ মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন।

এলাকার সুশীল সমাজ মনে করে দ্রুত অবৈধ এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পর্যটন নগরী পরিকল্পনা নিতে হবে। তারা আরও বলেন, বাঘা মাজার এলাকা দর্শনার্থীদের উপযোগী করার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া প্রয়োজন তা এখনও নেওয়া হয়নি। এজন্যই ফুটপাত, সড়ক দখল থেকে শুরু করে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাজার প্রাঙ্গণের দোকানিদের কেউই ভাড়ামুক্ত নয়। সবাই নামে বেনামে ভাড়া গুনেন। কয়েকজন দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে সবাই ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করেন। কীভাবে টাকা দেন এবং কে নেয় জানতে চাইলে তারা বলেন, বাঘা হাট ইজারাদার মামুন হোসেনের নির্দেশনায় প্রতিদিন দোকান রকমভেদে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। এছাড়াও বৈদ্যুতিক বিল বাবদ প্রতিটি ১৫ ওয়াট এনার্জি বাল্বের জন্য দোকান প্রতি প্রতিদিন ২০ থেকে ৭০ টাকা গুনতে হয়। সরকারি জায়গায় থেকেও কেন টাকা দেন এমন প্রশ্নের জবাবে দোকানিরা বলেন, ক্ষমতার কাছে আমরা অসহায়। আমাদের কিছু করার নেই।

তবে দাম্ভিকতার ‍সুরে সুজন নামের একজন কম্বল ব্যবসায়ী বলেন, আমরা আছি সরকারি জায়গায়। আমরা এখানে যারা দোকানদারি করি তাদের প্রতত্যেকের মজবুত শেল্টার আছে। তাই এই মার্কেট নিয়ে কথা বলে কারও লাভ নেই।

এ বিষয়ে হাট বাজারের ইজারাদার পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন বলেন, ‘কোনও দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হয়না। যেটা উঠানো হয় তা হাট বাজারের খাজনা। তারপরেও এ বিষয়ে আপনি হাটবাজার ডাককারী রাজশাহীর ঠিকাদার সুজনের সঙ্গে কথা বলেন সেই প্রকৃত ইজারাদার।’

এ বিষয়ে বাঘা মাজারের মোতয়ালি (রইস) খন্দকার মুনসুরুল ইসলাম বলেন, দোকান উচ্ছেদের জনন্য আমি কয়েকবার উদদ্যোগগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। এখন উর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যবস্থা না নিলে আমার কিছু করার নাই। কারণ, যিনি দোকানদারদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং তাদের নিকট থেকে টাকা উঠাচ্ছেন তিনি খুব প্রভাবশালী ব্যক্তি।

বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাজার এলাকায় দোকান দেয়া এবং তাদের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের অনুমতি বাঘা হাট ইজারাদারকে দেয়া হয়নি। এ কাজ যারা করছেন তারা অন্যায়ভাবে করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, মাজার প্রাঙ্গণে দোকান রয়েছে আমি যোগদান করবার আগে থেকেই। এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা এখনও পাইনি। নির্দেশনা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক মুঠোফোনে বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বাঘায় মাজার প্রাঙ্গণে অবৈধ দোকান এবং নিয়ম বহির্ভূত টাকা আদায়ের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে খুব শিঘ্রই কাগজপত্র দেখে সরেজমিন পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত মুহূর্ত কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
error: কপি/রাইট ক্লিক এর অনুমতি নাই !!!