1. admin@muhurto.tv : muhurtotv :
  2. info@netpeon.org : Ali Siddiki : Ali Siddiki
  3. smbabu.mcj@outlook.com : S M Babu : S M Babu
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

শরীয়তপুরে নির্যাতন মামলার আসামিও মেম্বার প্রার্থী

এস এম শাকিল, সংবাদ মুহূর্ত, শরীয়তপুর।
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৫৮ প্রদর্শিত সময়ঃ

শরীয়তপুরে নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার আসামি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মেম্বার পদের প্রার্থী হয়েছেন। আব্দুর রা জ্জাক নামের ওই ব্যক্তি পেদা জামিনে এসে নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদের প্রার্থী হয়েছেন।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ জানুয়ারি ভূমখাড়া ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে আব্দুর রাজ্জাক পেদা মেম্বার প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক পেদা বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় হৃদয় মন্ডল যে মামলা করেছে, ওই ঘটনার সময় আমি বাড়িতেই ছিলাম না। তবুও আমাকে মামলায় আসামি করেছে। আর বকুলি বেগম আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছে। প্রতিটি মামলায় পরাজিত হয়েছে। আমি মামলা থেকে জামিনে আছি।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নলতা গ্রামের মৃত তালেব আলী সরদারের মেয়ে বকুলী বেগমকে (৫৩) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেন নিতিরা গ্রামের তৎকালীন ভূমখাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক পেদা (৬০)।

ওই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে বকুলী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে রাজ্জাক পেদা প্রত্যাক্ষাণ করেন। পরে ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন বকুলী। মামলার পর একই বছরের ২০ জানুয়ারি তিনলাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে বকুলীকে বিয়ে করেন রাজ্জাক। এছাড়াও বকুলীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধার নেন রাজ্জাক।

বকুলীর অভিযোগ, সামন্য বিষয় নিয়ে রাজ্জাক তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। তিনি তার স্বামীকে দেয়া ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন বকুলী। ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি এ বিষয় নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাজ্জাক তার বাড়ি থেকে বকুলীকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত রাজ্জাক তার স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না, বাড়িতেও নিচ্ছেন না। পরে বাধ্য হয়ে বকুলী রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আবারও নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে বকুলী বেগম বলেন, ‘রাজ্জাক পেদা আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ভরণপোষণ দেয় না। আমার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দিয়েছে রাজ্জাক। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। তাই আমি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু আমি গরীব বলে বিচার পাচ্ছি না।’

তিনি প্রশ্ন করেন, রাজ্জাক নিজের স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ করতে না পারায় তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান। এরপরও সে মেম্বার পদে নির্বাচন করে কীভাবে? নির্বাচন অফিস কি তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তদন্ত করেনি?

অন্যদিকে, নড়িয়া নিতিরা গ্রামের সংখ্যালঘু নিত্যানন্দ মন্ডলের জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর তোলেন আব্দুর রাজ্জাক পেদা। গত ২৪ এপ্রিল নিত্যানন্দ মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল ও অলক মন্ডল বাধা দিলে তাদের মারধর করে আহত করেন তিনি। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় পরদিন ২৫ এপ্রিল হৃদয় বাদী হয়ে রাজ্জাক পেদাসহ পাঁচজনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলার প্রধান আসামি রাজ্জাক পেদা। এই মামলাতেও রাজ্জাক জামিনে আছেন।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত মুহূর্ত কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
error: কপি/রাইট ক্লিক এর অনুমতি নাই !!!