1. admin@muhurto.tv : muhurtotv :
  2. smbabu.mcj@outlook.com : S M Babu : S M Babu
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ মুহূর্তঃ
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের এি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মহানগরীর পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন রাসিক মেয়র ও আরএমপি কমিশনার খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় রাজশাহীতে দোয়া মাহফিল রাসিক মেয়র ও আরএমপি কমিশনারের প্রতিমা বিসর্জন পরিদর্শন রাজশাহীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে সাদাছড়ি বিতরণ দুর্গাপূজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন আরএমপির সিআরটি সদস্যদের সাতদিনের মেন্টরশিপ কোর্স শুরু ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শেষযাত্রায় অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলেছে মাদ্রিদে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভ্রাতৃ সমাবেশ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুদানের চেক বিতরণ করলেন বসিক মেয়র

কাঁচকি মাছের চানাচুর ও বার তৈরি করলেন বাকৃবি’র গবেষকরা

হাবিবুর রনি, সংবাদ মুহূর্ত, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৭ প্রদর্শিত সময়ঃ

কাঁচকি দেশীয় প্রজাতির ছোট এবং স্বচ্ছ একটি মাছ। মাছটি দেশের নদ-নদী, খাল-বিলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। কিন্তু মাছের আকার ছোট এবং কাটাযুক্ত হওয়ায় অনেকেই এটি খেতে পছন্দ করেন না। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা খেতে চায় না। যদিও এই ছোট মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান।

যারা ছোট মাছ খেতে চান না বিকল্প উপায়ে তাদের সেই পুষ্টি গ্রহণের উপায় উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের একদল গবেষক। কাঁচকি মাছ প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তারা তৈরি করেছেন কাঁচকি মাছের চানাচুর এবং কুড়কুড়ে বাদাম ও তিলের বার।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন এই গবেষক দলের প্রধান বাকৃবির ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নুরুল হায়দার। সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালনা করেন গবেষকরা। গবেষণায় সহযোগী গবেষক ছিলেন প্রভাষক মো. মোবারক হোসেন।

ড. মুহম্মদ নুরুল হায়দার বলেন, দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ থেকে তৈরিকৃত খাদ্য উৎপাদনে গবেষণায় কাঁচকি মাছকে নির্বাচন করি। কাঁচকি মাছে শরীরের জন্যে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন এ রয়েছে। বর্তমানে এ মাছটির প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাঁচকি মাছ গুরুত্বপূর্ণ।

এ পুষ্টিসমৃদ্ধ মাছ খেতে শিশুসহ অনেকেই অনাগ্রহী। মাছের এ প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল সহজে তারা যেন পেয়ে যায় সেজন্যে দুটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬টি পণ্য উৎপাদন করেছি। শিশুসহ সকল বয়সের মানুষের চানাচুর এবং বার জাতীয় খাবারটি খুব পছন্দনীয়। তাই ক্যাটাগরি-১ এর পণ্যগুলো মূলত চানাচুর জাতীয় অন্যদিকে ক্যাটাগরি-২ এর পণ্যগুলো মূলত কুড়কুড়ে বাদাম ও তিলের বার জাতীয় করে তৈরি করা হয়েছে। এতে তারা এসব মুখরোচক খাবারের সাথে মাছের পুষ্টিও গ্রহণ করতে পারবে।

মো. মোবারক হোসেন বলেন, মুখরোচক খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান বৃদ্ধিও লক্ষেই আমরা মূলত গবেষণাটি প্রকল্প সম্পন্ন করেছি। ছোট মাছের কাঁটা খেতে হবে চিবিয়ে এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম পাওয়া যাবে। অন্যদিকে গর্ভবতী মা এবং দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দিয়ে থাকে এ কাঁচকি মাছ।

তিনি আরও বলেন, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশ নিউট্রিশন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা যায় চানাচুর জাতীয় পণ্যগুলোতে গড়ে ৪-৫ % ময়েশ্চার, ২৬-৩০% লিপিড, ১৮-২২% প্রোটিন, ৫% মিনারেল, ২% ফাইবার এবং ৩৯-৪২% কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। যেখানে সাধারণ চানাচুরে প্রোটিন থাকে ১২-১৩%। বার জাতীয় পণ্যগুলোতে ২০-২২ % ময়েশ্চার, ১৩-১৯% লিপিড, ১৩-১৫% প্রোটিন, ১২-১৫% মিনারেল, ২-৩% ফাইবার এবং ৩২-৩৪% কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়।

তিল এবং বাদামের পণ্যগুলো তৈরি করা হয় বাদাম, মাছ, তিল এবং গুড়ের সমন্বয়ে। প্রথমে উপাদানগুলো হাইজেনিক পদ্ধতিতে শুষ্ক করে নেওয়া হয়। যেখানে মাছ, তিল এবং বাদাম প্রথমে ভেজে নেওয়া হয়। মাছগুলো মাঝারি তাপমাত্রায় ভেজে নেওয়া হয় এতে মাছগুলো মচমচে হবে। পরে আখের গুড়ের সাথে মিশিয়ে এসব বার তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে বাজারের তৈরি চানাচুরের সাথে প্রক্রিয়াকৃত মাছ মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে চানাচুর। মাছ দিয়ে তৈরি এসব পণ্যে পরবর্তীতে মাছের কোনো গন্ধ থাকে না। জিপার ব্যাগে পণ্যগুলো ২ মাসের বেশি সময় পর্যন্ত ভালো থাকে বলে জানান গবেষক দলের প্রধান নুরুল হায়দার ।

পণ্যগুলোর বাজার মূল্য কেমন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ প্রাণের ২৫ গ্রামের যে পিনাট বার পাওয়া যায় তার দাম ১০ টাকা করে। তাই মাছের তৈরি বারের দাম ১৫-২০ টাকা করে হতে পারে। প্রতি কেজি মাছের তৈরি বার বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা ৬০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন। অন্যদিকে মাছের চানাচুরের দাম নির্ধারণ হবে মাছের পরিমাণের উপর। চানাচুরে মাছের পরিমাণ যত বেশি হবে তার দামও ততো বেশি হবে।

এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফাতেমা হক শিখা বলেন, এ ধরণের পণ্য বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে দেশীয় পুষ্টিকর ছোট মাছগুলো সকল শ্রেণির ভোক্তাদেও মাঝে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। যা বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত মুহূর্ত কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
error: কপি/রাইট ক্লিক এর অনুমতি নাই !!!