1. admin@muhurto.tv : muhurtotv :
  2. info@netpeon.org : Ali Siddiki : Ali Siddiki
  3. smbabu.mcj@outlook.com : S M Babu : S M Babu
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

রাজবাড়ী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লাল সাদা শাপলার চিরচেনা রূপ

মেহেদী হাসান রাজু, সংবাদ মুহূর্ত, রাজবাড়ী।
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৬৮ প্রদর্শিত সময়ঃ

শাপলা ফুল দেখে মুগ্ধ হন না, এমন লোক কি আছে বাঙালি সমাজে? অতীতে গ্রামবাংলার বিলে-ঝিলে ও ডোবা-নালায় শাপলা ফুলের সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে সে দৃশ্যেএখন দেখা যায়না। এক সময় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পদ্মা কন্যা খ্যাত রাজবাড়ীর খাল-বিলে ফুটে থাকতো নয়নাভিরাম সাদা ও লাল শাপলা।

বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত পুকুর, বিল-ঝিল জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাতো সাদা-লাল শাপলা। শিশুরা তো বটেই সব বয়সের মানুষ রঙ-বেরঙের শাপলার বাহারি রুপ দেখে মুগ্ধ হতেন। কয়েক বছর আগেও শাপলাভরা বিলের মন মাতানো সৌন্দর্যে উপভোগ করা থেকে চোখ ফেরানো মুশকিল ছিল। কিন্তু বর্তমানে জেলার অধিকাংশ খাল-বিল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ফুলটি।

আগে এই সময়ে সকালে মাঠের নিচু জমি, জলাশয় ও পুকুরে চোখ পড়লেই দেখা মিলতো বাহারি লাল-সাদা রঙের শাপলা। শাপলার রূপ দেখে জুড়িয়ে যেত চোখ। গ্রামের শিশু কিশোরা সকাল থেকে মাঠ ও বিল-ঝিল থেকে সংগ্রহ করতো শাপলা ফুল। আর বাড়িতে এসে সেই শাপলা গলায় মালা হিসেবে ব্যবহার করতো তারা। আবার গ্রামের অনেক পরিবারের খাদ্য তালিকায় যুক্ত ছিলো শাপলা ফুল ও শাপলার ডাঁটা। আবার শাপলার ভেট দিয়ে অনেকেই খই বানিয়ে খেতো। কিন্ত সেই চিত্র এখন বিরল। 

জেলার পাংশা উপজেলার আঁধারকোটা গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, বর্ষার শুরুতে সকালে বিভিন্ন স্থানে শাপলার বাহারী রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। এসব দৃশ্য চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না। অনেকে আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার লোকজন শাপলা তুলে বিক্রি করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এইসকল দৃশ্য চোখে পড়েনা।

বালিয়াকান্দি উপজেলার সৃরামপুর গ্রামের পঞ্চাশ বছর বয়সী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক জানান, শাপলা ফুল বাংলার সংস্কৃতির এক অনন্য অনুষঙ্গ। শাপলার বংশ বিস্তার রক্ষা করা বাঙালি হিসেবে আমাদের নৈতিক দ্বায়িত্ব।

জেলার কালুখালি উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল, জলাশয় ভরাট ও কৃষিজমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের কারণে দিন দিন এই উপজেলা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সাদা-লাল রঙ এর শাপলা। আর তার সাথে সাথে বিপন্নের পথে শাপলার ফল। শাপলা ফল বা ঢ্যাপ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এখন। এর জন্য আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনেকটা দায়ী। 

জেলা কৃষি কর্মকর্তা গোপাল কৃঞ্চ দাস বলেন, ভৌগলিকভাবে জেলার অধিকাংশ স্থানের ভূমি পদ্মার পলি মাটি দিয়ে গঠিত ও বৃষ্টিপাতের এলাকা হিসেবে পরিচিত। তার পরেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজবাড়ীতে আগের মতো আর বৃষ্টিপাত হয় না। এছাড়াও বিল ও পুকুরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করায় দিনদিন এই অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত মুহূর্ত কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
error: কপি/রাইট ক্লিক এর অনুমতি নাই !!!