1. admin@muhurto.tv : muhurtotv :
  2. info@netpeon.org : Ali Siddiki : Ali Siddiki
  3. smbabu.mcj@outlook.com : S M Babu : S M Babu
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জের কৈজুরী হাটে নৌকা বিক্রির ধুম

এইচ এম আলমগীর কবির, সংবাদ মুহূর্ত, সিরাজগঞ্জ।
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১
  • ১০৬ প্রদর্শিত সময়ঃ

যমুনা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চল। ডুবে যাচ্ছে আবাদী জমি। ফলে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় নৌকা বেচা-কেনার ধুম পড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর হয়ে উঠেছে নৌকার হাটগুলো। এমনই দৃশ্য দেখা গেছে শাহজাদপুরের কৈজুরী নৌকার হাটে।

এছাড়াও নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কাঠ মিস্ত্রীরা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শাহজাদপুরের কৈজুরী হাটে রেকর্ড সংখ্যক নৌকা বেচা-কেনা হয়। বর্ষাকালে এই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যাওয়ায় ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তখন নৌকা একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠে এই এলাকার মানুষদের।

প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী মাদ্রাসা মাঠে বসে নৌকার হাট। এখানে ছোট, বড় ও মাঝারি নৌকা সাজিয়ে বসে থাকেন বিক্রেতারা। নৌকা ও লগি বৈঠা ক্রয় করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন ক্রেতারা। চার হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের নৌকা বেচাকেনা হয় হাটে।

চর-কৈজুরী হাটে নৌকা কিনতে আসা সালাম নামের একজন জানান, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ির চারপাশে পানিতে থৈ থৈ করছে। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যেতে নৌকাই একমাত্র বাহন। আগেই নৌকা কেনা লাগতো তবে সময়ের অভাবে দেরি হয়েছে।

একই গ্রামের ব্যবসায়ী মনি ব্যাপারী জানান, শুধু বর্ষা মৌসুমে নৌকা বিক্রি ভালো হয়। বছরের অন্য সময় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। নৌকার ব্যবসা এখন অনেকটাই মৌসুমী ব্যবসা হয়ে পড়েছে।

নৌকা বিক্রেতা কোরবান আলী জানান, নৌকা বিক্রি তাদের পৈত্রিক ব্যবসা। বাড়িতেই তাদের কারখানা রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকেই কিশোর বয়সে বাবার সঙ্গে নৌকা বিক্রি করতে তিনি কৈজুরী হাটে আসতেন। তখন ১০ হাত লম্বা একটি ডিঙি নৌকা ছয়শো থেকে সাতশো টাকায় বিক্রি হতো। এখন সেই নৌকা বিক্রি হচ্ছে ছয় হাজার থেকে সাত হাজার টাকায়।

কাঠ মিস্ত্রি কমল সূত্রধর জানান, সপ্তাহে তাদের কারখানা থেকে পাঁচ-ছয়টি নৌকা হাটে নিয়ে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে লোহা ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। নৌকার আকার ও প্রকারভেদে ছয় হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে লাভের অংশ আগের থেকে কমে গেছে।

ডায়া বাজারের নৌকা তৈরির কারখানার মালিক আসলাম শেখ জানান, কাঠ মিস্ত্রিদের মজুরি ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকার দাম বেড়েছে। প্রতিটি ডিঙি নৌকার জন্য একজন মিস্ত্রিকে সাতশো টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। তারপরও এ বছর আগাম নৌকার অডার্র ভালোই পাওয়া যাচ্ছে।

কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতি শুক্রবার এখানে নৌকার হাট বসে। হাটে বিক্রির জন্য শতাধিক ডিঙি নৌকা আনা হয়। নদীর নাব্য সংকটের কারণে বর্ষার পরপরই নদী পথ হারিয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা দরকার।

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত মুহূর্ত কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
error: কপি/রাইট ক্লিক এর অনুমতি নাই !!!