1. admin@muhurto.tv : muhurtotv :
  2. info@netpeon.org : Ali Siddiki : Ali Siddiki
  3. smbabu.mcj@outlook.com : S M Babu : S M Babu
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

মসলার আছে যাদুকরী গুণাগুণ

সুমাইয়া জেসমিন অরিন, সংবাদ মুহূর্ত।
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১
  • ৩৫৩ প্রদর্শিত সময়ঃ

বাঙালির রসনা বিলাস মানেই বিভিন্ন ধরনের মসলার মিশেল। এত ধরনের মসলার ব্যবহার সম্ভবত বাঙালি সমাজেই দেখা যায়। তবে মসলাযুক্ত খাবার নিয়ে বিধি-নিষেধ থাকলেও মসলার পরিমিত ব্যবহার আমাদের নানা উপকার করে। এমনকি মসলার মধ্যে থাকা নানান উপাদান, আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। এমন কিছু যাদুকরী মসলার সাথে আমরা পরিচিত হবো:

এলাচ:

এলাচকে বলা হয় মসলার রাণী। খাবারের স্বাদ বাড়াতে এলাচ ব্যবহার হয়। এতে আছে প্রোটিন, কার্বোহাড্রেট, কোলেস্টেরল, ক্যালোরি, ফ্যাট, ফাইবার, নিয়াসিন, রাইবোফ্ল্যাভিন, পাইরিডক্সিন, থিয়ামিন, ইলেকট্রোলাইট, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, কপার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, সি ইত্যাদি। এটি হৃদযন্ত্রের জন্য, শ্বাসকষ্ট রোধ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে,ক্যান্সার প্রতিরোধে, চুল ও ত্বকের যত্নে, ক্ষুধা বৃদ্ধি,ডিপ্রেশন কমাতে, স্মৃতি শক্তি প্রখর করতে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে গর্ভবতী মা ও গলব্লাডার বা কিডনিতে পাথরের সমস্যা আছে যাদের, তাদের পরিমিত এলাচ ব্যবহার করা উচিত।

লবঙ্গ:

লবঙ্গ কে ‘লং’ বলাও হয়। এর সুগন্ধির কারণ হলো এর মধ্যে থাকা ইউজেনল নামক যৌগ যার রয়েছে জীবাণুনাশক ও বেদনা নাশক গুণাগুণ। লবঙ্গতে যেসব উপাদান রয়েছে তাতে কেউ যদি প্রতিদিন সকাল ও রাতে ২-৩ লবঙ্গ চিবিয়ে খায় তবে তার দাঁতের ব্যথা কমাতে, সাইনাস ইনফেকশনের প্রকোপ কমাতে, সর্দিকাশি নিরাময়ে, রক্ত পরিশোধন করতে, ব্রণ দূর করতে, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানান রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করবে।

দারুচিনি:

দারুচিনি যেমন ঝালযুক্ত খাবারে ব্যবহার হয় তেমনি মিষ্টি জাতীয় খাবারেও ব্যবহার করা হয়। দারুচিনি  সবচেয়ে বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভেষজ। দারুচিনিতে রক্তের শর্করার রোধকসহ অসাধারণ ঔষধি গুণাবলী রয়েছে যা, প্রদাহ কমাতে এবং স্নায়বিক স্বাস্থ্য উন্নতি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও দারুচিনি ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে, ওজন কমাতে, অ্যাসিডিটি দূরীকরণে, স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতে, বাত ও অস্টিওপোরেসিস কমাতে, মাথা ব্যথা ও দাঁতের সমস্যা দূরীকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে।

জিরা:

স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে জিরার জুড়ি মেলা ভার‌। তবে গুণাগুণের দিক থেকেও পিছিয়ে নেই জিরা। জিরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। জিরা ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, বদহজম, কিডনি, লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, ক্যান্সার প্রতিরোধে, পোকামাকড় কামড়ের ক্ষত স্থান সেরে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বাজারে আজকাল পাওয়া যায় জিরার সহযোগে তৈরি জিরা পানি। এটিও বেশ জনপ্রিয়।

হলুদ:

হলুদ শুধু খাবারের রং তৈরি নয় পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিমানও অনেক বাড়িয়ে দেয়। হলুদকে ঔষধি ভেষজ বলা হয়। এর মধ্যে থাকা নানান উপাদানগুলো  হজমের সমস্যা দূর করে, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, আর্থাইটিসের বাথ্যা কমায়, যকৃত সুরক্ষিত রাখে, পিরিয়ডের নানান সমস্যা দূর করে, শ্বাসক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।

আদা:

আদায় রয়েছে পটাশিয়াম, আয়রণ, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন এ, বি-৬, ই ও সি এবং অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট ও অ্যান্টি–ইনফ্লামেটরি এজেন্ট । এতো কিছু থাকায় আদাকে কিন্তু রোগ নিরাময়ের দাদা বলা হয়। বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের মধ্যে সর্দিকাশি নিরাময়ে, কফ নিয়ন্ত্রণ, ক্যান্সার প্রতিরোধে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, লিভারের জটিলতা দূর করতে, আমাশয়, পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা কমাতে, মাইগ্রেন দূরীকরণে প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

এভাবে নানা ধরনের মসলা আমাদের খাবারকে শুধু সুস্বাদুই করে না পাশাপাশি নানা রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে মনে রাখতে হবে কোনও কিছুরই অতিরিক্ত ব্যবহার ভালো নয়। খাবারে পরিমিত পরিমাণে মসলার ব্যবহার খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। 

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত মুহূর্ত কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
error: কপি/রাইট ক্লিক এর অনুমতি নাই !!!