1. admin@muhurto.tv : muhurtotv :
  2. smbabu.mcj@outlook.com : S M Babu : S M Babu
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ মুহূর্তঃ
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের এি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মহানগরীর পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন রাসিক মেয়র ও আরএমপি কমিশনার খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় রাজশাহীতে দোয়া মাহফিল রাসিক মেয়র ও আরএমপি কমিশনারের প্রতিমা বিসর্জন পরিদর্শন রাজশাহীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে সাদাছড়ি বিতরণ দুর্গাপূজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন আরএমপির সিআরটি সদস্যদের সাতদিনের মেন্টরশিপ কোর্স শুরু ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শেষযাত্রায় অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলেছে মাদ্রিদে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভ্রাতৃ সমাবেশ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুদানের চেক বিতরণ করলেন বসিক মেয়র

মুঠোফোনঃ সুবিধা আর ঝুঁকির ব্যবচ্ছেদ

ইসরাত জাহান অমি, সংবাদ মুহূর্ত।
  • তথ্য হালনাগাদের সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ২০৫ প্রদর্শিত সময়ঃ

মোবাইল বা মুঠোফোন যার নাম থেকেই বোঝা যায় এই যন্ত্র সৃষ্টি করা হয়েছিল তার স্রষ্টার হাতের মুঠোয় থাকার জন্য। আর হাতের মুঠোয় থাকার মানে তো এই দাঁড়ায় যে স্রষ্টাই নিয়ন্ত্রণ করবে তার সৃষ্টিকে। হাতের মুঠোয় আছে ঠিকই কিন্তু সে এখন নিয়ন্ত্রক হয়ে গেছে তার প্রভুর। শুনতে অবাক লাগলেও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে যা পুরোপুরি মিলে গেছে। আমাদের হাতের মুঠোয় আঠার মতো লেগে থেকে সে নিয়ন্ত্রণ করছে আমাদের। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সকালের চোখ খোলা থেকে শুরু করে রাতে চোখ বন্ধ করা অবধি সারাক্ষণ আমাদের মোহাবিষ্ট করে রেখেছে মোবাইল ফোন। এর সাথে যেনো হয়ে উঠেছে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছি আমরা আমাদের আত্মার এত পরম সম্পর্ক যার সাথে সে প্রতিনিয়ত কীভাবে আমাদের জীবনে ডেকে নিয়ে আসছে অন্ধকার! চলুন তাহরে জেনে রাখি।

১.নোমোফোবিয়াঃ

মোবাইল ঠিক জায়গায় আছে কিনা তা নিয়ে মন সব সময় সতর্ক থাকে। সবকিছু থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মোবাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই মোবাইল হারানোর ভয় থেকে মনের মধ্যে জন্ম নেয় এক সমস্যা। গবেষকেরা মোবাইলের সঙ্গে যোগাযোগ হারানোর এই ভয়জনিত অসুখের নাম দিয়েছেন ‘নোমোফোবিয়া’; যার পুরো নাম ‘নো মোবাইল-ফোন ফোবিয়া’।

২.অন্ধকারে মোবাইল ব্যাবহারের সমস্যা

স্মার্টফোন, লাইট এবং কম্পিউটার, ট্যাবলেট এবং টিভি স্ক্রিনগুলির দ্বারা নিঃসৃত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের নীল আলো ক্ষতিকারক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখে। আলোর এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের এক্সপোজার সার্কেডিয়ান তালগুলোকে ব্যাহত করে। সূর্য ডুবে যাওয়ার পরে নীল আলোর এক্সপোজারটি ঘুমের মধ্যে হস্তক্ষেপ করে। নীল আলো হৃদরোগ, স্থুলতা, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগের জন্য এর অবদান থাকে। অন্ধকারের পরে স্মার্টফোনের স্ক্রীনসহ অপ্রয়োজনীয় আলোতে এক্সপোজারটি হ্রাস করা উচিৎ।

৩.চোখের জ্যোতি হ্রাসঃ

যুক্তরাজ্যের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে দৃষ্টি বৈকল্য সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে মায়োপিয়া বা ক্ষীণ দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সাধারণত চোখ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রেখে তা ব্যবহার করেন। তবে, অনেকের ক্ষেত্রে এ দূরত্ব মাত্র ১৮ সেন্টিমিটার। সংবাদপত্র, বই বা কোনো কিছু পড়ার ক্ষেত্রে সাধারণত চোখ থেকে গড়ে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব থাকে। চোখের খুব কাছে রেখে অতিরিক্ত সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে জিনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্ষীণদৃষ্টি সৃষ্টির জন্য যা ভূমিকা রাখতে সক্ষম। গবেষকেরা একে ‘এপিজেনেটিকস’ সংক্রান্ত বিষয় বলেন। গবেষকেরা দীর্ঘক্ষণ ধরে স্মার্টফোনে চোখ না রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। দৈনিক কিছু সময় মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তারা। স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স বিবেচনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা।

৪.শরীরের অস্থি-সন্ধিগুলোর ক্ষতিঃ

অতিরিক্ত সময় ধরে মেসেজ টাইপ করা হলে আঙুলের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হতে পারে এবং অবস্থা বেশি খারাপ হলে আর্থরাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও অনেকেই কাজের সময় মুঠোফোন ব্যবহার করতে গিয়ে কাঁধ ও কানের মাঝে ফোন রেখে কথা বলে। অনেকেই অতিরিক্ত ঝুঁকে বসে দীর্ঘ সময় ধরে মেসেজ পাঠাতে থাকে। বসার ভঙ্গির কারণেও শরীরে নানা অসুবিধা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ হচ্ছে অতিরিক্ত সময় ধরে মোবাইলে মেসেজ না লিখতে, এতে করে শরীরের জয়েন্ট বা সন্ধির সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।

৫. এই বুঝি ফোন আসলোঃ

ব্যবহারকারী ফোনের রিং না বাজলে কিংবা ভাইব্রেশন না হলেও হঠাৎ করেই তা শুনতে পান বা অনুভব করেন। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা ভুগতে শুরু করলে তা টেরও পান না অনেক ব্যবহারকারী।

৬. শুক্রাণুর ঘনত্ব হ্রাসঃ

গবেষকেরা জানান, মোবাইল থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কে ক্যানসারের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোষকলা এই ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে পুরুষের প্রজননতন্ত্রেরও। গবেষকেদের দাবি, মুঠোফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

৭. টয়লেট সিটের চেয়েও ১০ গুণ বেশি ব্যাক্টেরিয়ার বসবাসঃ

মার্কিন গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, টয়লেট সিটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে মোবাইলে। মোবাইল নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এটি জীবাণুর অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। গবেষকেরা বলেন, মুঠোফোনে ব্যাকটেরিয়াগুলো ব্যবহারকারীর জন্য খুব বেশি ক্ষতিকারক না হলেও এটি থেকে সংক্রমণ বা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিয়মিত মোবাইল পরিষ্কার করলে এ সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়। 

৮. কানে কম শোনাঃ

মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে কানের সমস্যা তৈরির বিষয়টি অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। হেডফোন ব্যবহার করে উচ্চশব্দে গান শুনলে অন্তকর্ণের কোষগুলোর ওপর প্রভাব পড়ে এবং মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক আচরণ করে। একসময় বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এভাবেই প্রতিনিয়ত আমাদের সৃষ্টি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে করে যাচ্ছে নীরবে আমাদের ক্ষতি। মানবজাতির সুবিধার জন্য সৃষ্টি করা হলেও তা মানবজাতির শরীরের জন্য বয়ে নিয়ে আসছে নানা প্রকার অসুবিধা।

লেখকঃ খন্দকার ইসরাত জাহান অমি, শিক্ষার্থী, জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। 

খবরটি আপনার স্যোশাল টাইমলাইনে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও অন্যান্য খবর
কপিরাইট © ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত মুহূর্ত কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
error: কপি/রাইট ক্লিক এর অনুমতি নাই !!!